বর্ষার রাত ছিল। জানালার কাঁচে টুপটাপ বৃষ্টির শব্দ আর অভ্র ফোনের স্ক্রিনে তাকিয়ে।
একটা ছোট্ট নোটিফিকেশন—
“তিথি আপনার পোস্টে মন্তব্য করেছেন।”
মন্তব্যটা খুব সাধারণ—
“কবিতাটা মনে ছুঁয়ে গেল।”
সেই এক লাইনের ভেতরেই যেন অদৃশ্য একটা দরজা খুলে গেল।
তারপর দিনগুলো বদলাতে লাগল।
রাত জেগে কথা, হালকা হাসি, মাঝেমধ্যে অভিমান।
তারা কখনো দেখা করেনি, তবু অদ্ভুতভাবে একে অপরের জীবনের গভীরে ঢুকে পড়েছিল।
তিথি বলত,
“প্রথম দেখা হঠাৎ হবে। সিনেমার মতো।”
অভ্র চোখ বন্ধ করে কল্পনা করত—
ভিড়ের মধ্যে হঠাৎ এক জোড়া চোখের সঙ্গে চোখ মেলা,
আর কোনো দ্বিধা ছাড়া চিনে নেওয়া।
অভ্র ভালোবাসত শব্দ দিয়ে।
তিথির কষ্ট শুনে তার বুক ভারী হয়ে যেত।
তিথির হাসি পেলে তার দিন উজ্জ্বল হয়ে উঠত।
তাদের সম্পর্কের কোনো নাম ছিল না,
তবু অনুভূতিটা ছিল নিখাদ।
কিন্তু ভালোবাসা সবসময় সমান তালে হাঁটে না।
একদিন হটাৎ করে তিথির কথাগুলো ছোট হয়ে এল।
বার্তাগুলো সংক্ষিপ্ত, হাসির ইমোজি কমে গেল।
“আমাদের এতটা জড়িয়ে পড়া ঠিক না।”
“আমি চাপের মধ্যে আছি।”
“দূরে থাকাই ভালো।”
“ভীষণ ব্যস্ত, সময় হচ্ছে না।”
অভ্র বুঝতে পারছিল—
এই বিদায়টা আসছে ধীরে ধীরে।
সেই শেষ রাতে স্ক্রিনের আলো খুব উজ্জ্বল ছিল,
কিন্তু কথাগুলো খুব অন্ধকার।
তিথি লিখল—
“আমাদের এখানেই থামা উচিত।”
অভ্র অনেকক্ষণ কিছু লিখতে পারেনি।
হাজারটা শব্দ ভিড় করছিল,
তবু সে জানত, ভালোবাসা ধরে রাখার জন্য অনুরোধ করা যায় না।
শেষমেশ সে লিখল—
“ভালো থেকো।”
তারপর নিস্তব্ধতা।
দিন কেটে গেল।
তিথির জীবনে নতুন ছবি, নতুন মানুষ, নতুন হাসি।
অভ্র দূর থেকে দেখে, চুপচাপ।
রাতে মাঝে মাঝে পুরোনো চ্যাট খুলে পড়ে।
সেই প্রথম “হাই”,
সেই “তুমি না থাকলে দিন অসম্পূর্ণ।”
চোখ ভিজে ওঠে না আর।
ভালোবাসাটা ব্যথা থেকে ধীরে ধীরে স্মৃতিতে বদলে গেছে।
সে এখন জানে—
সব সম্পর্ক পূর্ণতা পায় না।
সব অপেক্ষার শেষ দেখা হয় না।
তবু কিছু অনুভূতি কখনো মরে না।
তারা শব্দ হারায়, কিন্তু হৃদয়ে বেঁচে থাকে।
হয়তো কোনোদিন ভিড়ের মধ্যে সত্যিই চোখাচোখি হবে।
হয়তো হবে না।
কিন্তু অভ্র জানে—
সে একবার সত্যি ভালোবেসেছিল।
আর সেই কারণেই—
সব গল্প শেষ হতে নেই।
-written by ©thesudipbiswas



0 Comments
Please do not enter any spam link in the comment box