সেদিন বিকেল থেকে আকাশ কালো করে মেঘ জমছিল। সন্ধ্যার পর বৃষ্টি নামল ঝমঝম করে। বুবু জানালার পাশে বসে বাইরের দিকে তাকিয়ে ছিল। রাস্তায় জল জমে গেছে, বাতাস বইছে জোরে।
হঠাৎ তার চোখ পড়ল—একটা ছোট্ট বিড়াল রাস্তার ধারে সপসপে ভিজে কাঁপছে! হয়তো কোথাও আশ্রয় পায়নি, নয়তো হারিয়ে গেছে!
বুবুর মন কেমন করে উঠল। সে ছুটে গিয়ে মা’কে বলল, “মা, আমি ওটাকে নিয়ে আসব?”
মা একটু ভেবে বললেন, “বুবু, বিড়ালটা যদি অসুস্থ হয়?”
বুবু নিশ্চয়তার সঙ্গে বলল, “আমি ওর যত্ন নেব!”
মা মুচকি হেসে বললেন, “ঠিক আছে, তবে শুধু এক রাতের জন্য। সকালে যদি কেউ ওকে খুঁজতে আসে, তাহলে ফেরত দিতে হবে!”
বুবু খুশি হয়ে দৌড়ে গেল বাইরে। ছোট্ট বিড়ালটাকে আস্তে করে কোলে তুলে আনল। ওর গায়ে কাঁপুনি, চোখে আতঙ্ক!
সে বিড়ালটাকে তোয়ালে দিয়ে মুছিয়ে দিল, একটা নরম কম্বলে জড়িয়ে রাখল, আর নিজের দুধের গ্লাস থেকে অর্ধেকটা বাটিতে ঢেলে সামনে রাখল।
বিড়ালটা ধীরে ধীরে দুধ খেতে লাগল, আর একটু পরেই গুটিশুটি মেরে কম্বলের মধ্যে শুয়ে পড়ল। মাঝেমধ্যে ছোট্ট লেজটা দুলছিল, যেন কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছে!
সেই রাতটা বুবু আর মিনির কেটেছিল একসঙ্গে। বিড়ালটা মাঝেমাঝে তার গায়ে মুখ ঘষছিল, বুবুও ওকে স্নেহভরে হাত বুলিয়ে দিচ্ছিল।
সকালে উঠে বুবু দেখল, মিনি দরজার কাছে দাঁড়িয়ে বাইরে তাকিয়ে আছে। যেন অপেক্ষা করছে!
ঠিক তখনই, একটা ছোট ছেলে ছুটে আসতে দেখা গেল। তার চোখে জল, মুখে উৎকণ্ঠা।
সে এসে মিনিকে কোলে তুলে নিয়ে বলল, “মিনি! আমি কাল সারাদিন তোকে খুঁজেছি!”
বুবুর একটু মন খারাপ হলো, কিন্তু সে হাসল। কারণ সে বুঝতে পারল—ভালোবাসা মানে শুধু নিজের কাছে রাখা নয়, কাউকে তার ভালোবাসার আসল জায়গায় ফিরিয়ে দেওয়াও ভালোবাসারই অংশ!
ছেলেটি বুবুর দিকে তাকিয়ে বলল, “তুমি আমার মিনিকে আগলে রেখেছিলে, অনেক ধন্যবাদ!”
বুবু হাসল, আর যাওয়ার আগে মিনি একবার ফিরে এসে তার ছোট্ট নরম পায়ে বুবুর হাত ছুঁয়ে দিল—যেন বলল,
“তুমি আমার এক রাতের বন্ধু, কিন্তু আমি তোমাকে সারাজীবন মনে রাখব!”
-written by ©thesudipbiswas
0 Comments
Please do not enter any spam link in the comment box